বাংলাদেশে প্রতিটি নিবন্ধিত কোম্পানিকে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। এটি NBR-এর কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে অনেকেই এই প্রক্রিয়াকে কঠিন মনে করেন।
আসলে সঠিক তথ্য জানলে কাজটি সহজ হয়।তাই করের বিষয়গুলো ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।
কোম্পানির আয়কর রিটার্ন কী?
আয়কর রিটার্ন একটি সরকারি ঘোষণাপত্র। এখানে কোম্পানি তার আয়, ব্যয় ও মুনাফার হিসাব দেয়। পাশাপাশি প্রদেয় করও উল্লেখ করতে হয়।
অন্যভাবে বললে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক রিপোর্ট।
এছাড়া, আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী এটি বাধ্যতামূলক। তাই সব রেজিস্টার্ড কোম্পানিকে এটি দাখিল করতে হয়। যেমন: পাবলিক লিমিটেড, প্রাইভেট লিমিটেড এবং বিদেশি শাখা।
কী কী কাগজপত্র লাগবে?
রিটার্ন দেওয়ার আগে কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়া জরুরি। সাধারণত তিন ধরনের দলিল লাগে।
প্রথমত, আর্থিক বিবরণী:
প্রথমে আয়-ব্যয় বিবরণী তৈরি করতে হবে। এরপর ব্যালেন্স শিট প্রস্তুত করুন। এছাড়া নগদ প্রবাহ বিবরণীও লাগবে।
দ্বিতীয়ত, আইনি কাগজপত্র:
TIN সনদ থাকতে হবে। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন।
এছাড়া VAT সনদ ও RJSC সনদ লাগবে। সব ব্যাংক স্টেটমেন্টও সংরক্ষণ করুন।
তৃতীয়ত, কর সংক্রান্ত দলিল:
প্রথমেই অডিটরের রিপোর্ট সংগ্রহ করুন। এরপর TDS সনদ রাখুন।
অগ্রিম কর পরিশোধের প্রমাণও লাগবে। পাশাপাশি আগের বছরের কর আদেশ সংযুক্ত করুন।
রিটার্ন দাখিলের ধাপগুলো
প্রথম ধাপ:
প্রথমে e-TIN সক্রিয় কিনা যাচাই করুন। না থাকলে NBR সাইটে নিবন্ধন করুন।
দ্বিতীয় ধাপ:
এরপর সব আর্থিক হিসাব গুছিয়ে নিন। তারপর একজন CA দিয়ে অডিট করান।
তৃতীয় ধাপ:
অডিট শেষ হলে করযোগ্য আয় নির্ধারণ করুন। এরপর কর হিসাব করুন।
তারপর ব্যাংকের মাধ্যমে কর পরিশোধ করুন।
চতুর্থ ধাপ:
এরপর IT-11GHA ফর্ম পূরণ করুন। চাইলে eTaxBD পোর্টাল ব্যবহার করুন।
পঞ্চম ধাপ:
সবশেষে কাগজপত্রসহ কর সার্কেলে জমা দিন। এরপর রিসিভ কপি সংগ্রহ করুন।
সময়মতো না দিলে কী হবে?
সময়মতো রিটার্ন না দিলে সমস্যা হবে। প্রথমত, মাসিক ২% সুদ যোগ হবে।
এছাড়া ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
তবে ঝুঁকি এখানেই শেষ নয়। যদি ভুল তথ্য দেন, তাহলে বড় জরিমানা হতে পারে।
ফলে অতিরিক্ত করের ৫০%–১০০% পর্যন্ত দিতে হতে পারে।
সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে, রিটার্ন না দিলে কর্তৃপক্ষ নিজেই কর নির্ধারণ করবে। তাই আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন।
কিছু দরকারি পরামর্শ
সবার আগে আগেভাগে পরিকল্পনা করুন। এতে কর সাশ্রয়ের সুযোগ বাড়ে।
এছাড়া সব লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। অন্তত ৬ বছর রাখুন।
একই সাথে ডিজিটাল ব্যাকআপ রাখুন। এতে তথ্য হারানোর ঝুঁকি কমে।
সবশেষে, জটিল বিষয় হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। ফলে ভুলের সম্ভাবনা কমবে।