নতুন ট্রেড লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন করার পূর্ণাঙ্গ গাইড ২০২৬

ট্রেড লাইসেন্স কি 

নতুন ট্রেড লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। প্রকৃতপক্ষে, আপনি যদি কোনো ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় কোম্পানি পরিচালনা করতে চান, তবে ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক।

মূলত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এই লাইসেন্সের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার ধরন এবং অবস্থান নিশ্চিত করে। সাধারণত, এটি ছাড়া কোনো ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা ঋণের জন্য আবেদন করা সম্ভব হয় না।

ফলশ্রুতিতে, একজন উদ্যোক্তার জন্য এটি হলো ব্যবসার প্রাথমিক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল

১. ট্রেড লাইসেন্স কোথায় করতে হয়?

আপনার ব্যবসার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ ভিন্ন হতে পারে:

  • সিটি কর্পোরেশন এলাকা: ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ, চট্টগ্রাম বা অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক অফিস।
  • পৌরসভা এলাকা: সংশ্লিষ্ট পৌরসভার মেয়র বা লাইসেন্স শাখা।
  • ইউনিয়ন পর্যায়: স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ অফিস।

২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা (Checklist)

ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী কাগজের প্রয়োজনে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। তবে সাধারণ প্রয়োজনীয় কাগজগুলো হলো:

  • উদ্যোক্তার কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • মালিকের এনআইডি (NID) বা পাসপোর্টের ফটোকপি।
  • ব্যবসার ঠিকানার ভাড়ার চুক্তিপত্র অথবা জায়গার মালিকানার দলিল (ও হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ)।
  • ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট
  • পরিবেশগত ছাড়পত্র (ফ্যাক্টরি বা কারখানার ক্ষেত্রে)।
  • লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে: মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MoA) এবং ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট।

৩. নতুন ট্রেড লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া (Step-by-Step)

বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসহ বেশিরভাগ বড় শহরে অনলাইনে (E-Trade License) আবেদন করা যায়। ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  1. অনলাইন পোর্টালে নিবন্ধন: প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট (যেমন: gov.bd) বা সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব পোর্টালে গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
  2. আবেদন ফর্ম পূরণ: ব্যবসার নাম, ধরণ, মূলধনের পরিমাণ এবং সঠিক ঠিকানা দিয়ে ডিজিটাল ফর্মটি পূরণ করুন।
  3. ডকুমেন্ট আপলোড: প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
  4. ফি জমা দেওয়া: সিস্টেম থেকে একটি পেমেন্ট স্লিপ জেনারেট হবে। এটি আপনি অনলাইন ব্যাংকিং, কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) এর মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন।
  5. ভেরিফিকেশন: সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স সুপারভাইজার আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করতে পারেন (বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং বা বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে)।
  6. লাইসেন্স সংগ্রহ: সব তথ্য সঠিক থাকলে আপনি অনলাইন থেকেই আপনার ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড এবং প্রিন্ট করতে পারবেন।

৪. ট্রেড লাইসেন্স ফি (২০২৬ সালের আপডেট)

ট্রেড লাইসেন্সের ফি নির্ভর করে ব্যবসার ধরণ এবং মূলধনের ওপর। সাধারণত:

  • সাধারণ দোকান/ক্ষুদ্র ব্যবসা: ১,৫০০ – ৩,৫০০ টাকা।
  • লিমিটেড কোম্পানি/আইটি ফার্ম: ৫,০০০ – ১৫,০০০ টাকা (পেইড-আপ ক্যাপিটালের ওপর নির্ভর করে)।
  • অন্যান্য খরচ: লাইসেন্স ফি-র সাথে ১৫% ভ্যাট এবং ৩০% সাইনবোর্ড ট্যাক্স যুক্ত হয়।

৫. কেন সেগুনবাগিচা কনসালটেন্সি বেছে নেবেন?

নতুন ট্রেড লাইসেন্স  করার সময় সঠিক ব্যবসার ধরণ (Category) নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই আপনার ট্যাক্স এবং ভ্যাট নির্ধারিত হয়। সেগুনবাগিচা কনসালটেন্সি আপনাকে যেভাবে সাহায্য করবে:

  • সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচনে পরামর্শ প্রদান।
  • অনলাইন আবেদনে ভুল হওয়ার ঝুঁকি কমানো।
  • সব ধরণের আইনি জটিলতা নিরসন করে দ্রুত লাইসেন্স হাতে পাওয়া নিশ্চিত করা।

শেষ কথা

একটি বৈধ ট্রেড লাইসেন্স আপনার ব্যবসার বিশ্বস্ততা বাড়ায় এবং ব্যাংক লোন বা এলসি (L/C) খোলার পথ প্রশস্ত করে। দেরি না করে আজই আপনার ব্যবসার আইনি যাত্রা শুরু করুন।

দেরি না করে আজই নতুন ট্রেড লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন করুন এবং আপনার ব্যবসার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করুন। বিস্তারিত জানতে