কোম্পানি শেয়ার ট্রান্সফার সার্ভিস: আইনি প্রক্রিয়া ও সহজ গাইডলাইন

কোম্পানি শেয়ার ট্রান্সফার সার্ভিস:

কোম্পানি শেয়ার ট্রান্সফার বা হস্তান্তর বর্তমান ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বর্তমানে অনেক উদ্যোক্তাই শেয়ার হস্তান্তর করেন। মূলত, শেয়ার ট্রান্সফার হলো মালিকানা পরিবর্তনের একমাত্র আইনি মাধ্যম। তবে, সঠিক নিয়ম না জানলে এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল হতে পারে। ফলস্বরূপ, আজকের ব্লগে আমরা শেয়ার ট্রান্সফার সার্ভিসের খুঁটিনাটি আলোচনা করব।

১. শেয়ার ট্রান্সফার কী ?

প্রথমত, শেয়ার হস্তান্তর হলো মালিকানার অংশ অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা। সাধারণত, নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এটি করা হয়। তদুপরি, কোম্পানির কৌশলগত পরিবর্তনের জন্য কোম্পানি শেয়ার ট্রান্সফার অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশের কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয়।

২. শেয়ার হস্তান্তরের প্রধান ধাপসমূহ

শেয়ার হস্তান্তর কেবল চুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং, এটি বেশ কিছু ধারাবাহিক ধাপের সমষ্টি:

ক. বোর্ড মিটিং ও সিদ্ধান্ত

প্রথমেই, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকতে হবে। সেখানে, শেয়ার হস্তান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। ফলশ্রুতিতে, একটি আনুষ্ঠানিক বোর্ড রেজোলিউশন তৈরি হয়। এটি পরবর্তী ধাপের মূল ভিত্তি।

খ. ফর্ম ১১৭ প্রস্তুতকরণ

এরপর, হস্তান্তরের প্রধান দলিল ‘ফর্ম ১১৭’ পূরণ করুন। উল্লেখ্য যে, এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বাক্ষর লাগে। তাছাড়া, শেয়ারের সংখ্যা ও মূল্য স্পষ্টভাবে লিখতে হয়। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথি।

গ. ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি

পরবর্তীতে, নির্ধারিত সরকারি স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায়, দলিলটি আইনি বৈধতা পাবে না। পাশাপাশি, আরজেএসসি-র নির্দিষ্ট ফি ব্যাংকে জমা দিন। সঠিক ফি প্রদান প্রক্রিয়াটি দ্রুত করে।

ঘ. সার্টিফিকেট ও রেজিস্টার আপডেট

মূলত, কোম্পানি বিক্রেতার পুরোনো শেয়ার সার্টিফিকেট বাতিল করে। একইসাথে, ক্রেতার নামে নতুন সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। অতিরিক্ত হিসেবে, মেম্বার রেজিস্টারে নতুন নাম নথিভুক্ত হয়। এর মাধ্যমে মালিকানা চূড়ান্ত হয়।

৩. কেন প্রফেশনাল সার্ভিস জরুরি ?

কোম্পানি শেয়ার ট্রান্সফার নিজে করা সম্ভব হলেও আইনি জটিলতা থাকে। তথাপি, প্রফেশনাল সার্ভিস গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। এর সুবিধাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • নিখুঁত ড্রাফটিং: প্রথমত, প্রফেশনালরা আইনিভাবে সঠিক ডকুমেন্টেশন নিশ্চিত করেন।

  • ট্যাক্স পরামর্শ: দ্বিতীয়ত, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।

  • দ্রুত অনুমোদন: তৃতীয়ত, আরজেএসসি-র অনলাইন কার্যক্রম তারা দ্রুত সম্পন্ন করেন।

  • ঝুঁকি কমানো: সর্বোপরি, ভবিষ্যতে মালিকানা সংক্রান্ত মামলা হওয়ার ভয় থাকে না।

৪. বিশেষ ক্ষেত্রে শেয়ার হস্তান্তর

অনেক সময়, সাধারণ কেনাবেচার বাইরেও হস্তান্তর ঘটে। যেমন:

  • বিদেশি বিনিয়োগ: বিদেশি ক্রেতা থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানতে হবে। তদপরি, টাকা আসার এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

  • উত্তরাধিকার: শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যু হলে সাকসেশন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে, উত্তরাধিকারীদের নামে শেয়ার স্থানান্তর করা হয়।

০৫. সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQ)

প্রশ্ন: এই প্রক্রিয়া কতদিন সময় নেয়? উত্তর: সাধারণত, সব ঠিক থাকলে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ লাগে।

প্রশ্ন: স্ট্যাম্প ডিউটি না দিলে কী হবে? উত্তর: ফলস্বরূপ,

 আপনার আবেদনটি গ্রহণ করবে না।

উপসংহার

পরিশেষে, কোম্পানি শেয়ার ট্রান্সফার একটি সংবেদনশীল আইনি বিষয়। কাজেই, কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মূলত, আমাদের সার্ভিস আপনার ব্যবসাকে আইনি সুরক্ষা দিতে সক্ষম। আমরা স্বচ্ছতা ও দ্রুততম সময়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছি  ভিজিট করুন