বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ, কম শ্রম খরচ, বিশাল ভোক্তা বাজার এবং সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নানা প্রণোদনার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে Foreign Company Registration in Bangladesh একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ সঠিকভাবে রেজিস্ট্রেশন না করলে আইনগত জটিলতা, ব্যবসায়িক বাধা এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এই ব্লগ পোস্টে বাংলাদেশে বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, আইনি কাঠামো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশে বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন কী
বাংলাদেশে বিদেশি কোম্পানি সরাসরি স্থানীয় কোম্পানির মতো নিবন্ধিত হয় না।
এটি সাধারণত Parent Company-এর এক্সটেনশন হিসেবে অনুমোদন পায়।
এই অনুমোদন দেয় Bangladesh Investment Development Authority (BIDA)।
বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।
তবে ব্যবসার পরিধি অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী সীমাবদ্ধ থাকে।
Foreign Company এর সংজ্ঞা
Foreign Company বলতে বোঝায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান,
যা বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে নিবন্ধিত।
এই কোম্পানি বাংলাদেশে অফিস খুলতে চাইলে
স্থানীয় আইন অনুযায়ী অনুমোদন নিতে হয়।
কোন ধরনের বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করা যায়
বাংলাদেশে সাধারণত তিন ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয়।
- Branch Office
- Liaison Office
- Representative Office
প্রতিটি ধরনের উদ্দেশ্য আলাদা।
সেই অনুযায়ী কার্যক্রম নির্ধারিত হয়।
বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের ধরন
সঠিক অফিস টাইপ নির্বাচন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল টাইপ নিলে ভবিষ্যতে আইনগত সমস্যা হতে পারে।
Branch Office
Branch Office সরাসরি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
চুক্তি করা যায়।
ইনভয়েস ইস্যু করা যায়।
তবে লাভ Parent Company-তে পাঠাতে নির্দিষ্ট অনুমতি লাগে।
BIDA এই অফিসের কার্যক্রম স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে।
Liaison Office
Liaison Office ব্যবসা করতে পারে না।
এর কাজ হলো যোগাযোগ রক্ষা করা।
- মার্কেট রিসার্চ
- Parent Company-এর প্রতিনিধিত্ব
- সমন্বয় কার্যক্রম
কোনো ধরনের আয় করা এখানে নিষিদ্ধ।
Representative Office
Representative Office অনেকটা Liaison Office-এর মতো।
মূলত প্রচার ও যোগাযোগমূলক কাজ করে।
বাণিজ্যিক লেনদেন এখানে অনুমোদিত নয়।
রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
ডকুমেন্ট সঠিক না হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
সব কাগজ নোটারাইজ ও অ্যাটেস্টেড হতে হয়।
Parent Company Documents
- Certificate of Incorporation
- Memorandum & Articles of Association
- Board Resolution
- Audited Financial Statement
এই ডকুমেন্টগুলো
দেশীয় নোটারি ও দূতাবাস থেকে সত্যায়িত হতে হয়।
বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য ডকুমেন্ট
- অফিস ঠিকানার চুক্তি
- অফিস লে-আউট প্ল্যান
- Country Manager এর তথ্য
- ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট
সব তথ্য ইংরেজিতে জমা দিতে হয়।
Foreign Company Registration Process
পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়।
প্রথম ধাপ থেকেই পরিকল্পনা জরুরি।
BIDA অনুমোদন
BIDA হলো প্রধান কর্তৃপক্ষ।
এখানে অনলাইন ও ফিজিক্যাল আবেদন জমা দিতে হয়।
আবেদনে উল্লেখ করতে হয়—
- ব্যবসার ধরন
- কার্যক্রমের সীমা
- বিনিয়োগের পরিমাণ
অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো রেজিস্ট্রেশন করা যায় না।
অন্যান্য সরকারি রেজিস্ট্রেশন
BIDA অনুমোদনের পর করতে হয়—
- RJSC ফাইলিং
- TIN সংগ্রহ
- VAT রেজিস্ট্রেশন
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা
সবকিছু ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা জরুরি।
সময় ও খরচ
সময়ের পরিকল্পনা ব্যবসা শুরুতে বড় ভূমিকা রাখে।
আনুমানিক সময়
- BIDA অনুমোদন: 30–45 কার্যদিবস
- অন্যান্য রেজিস্ট্রেশন: 15–20 কার্যদিবস
ডকুমেন্ট ঠিক থাকলে সময় কম লাগে।
সম্ভাব্য খরচ
খরচ নির্ভর করে—
- অফিস টাইপ
- ডকুমেন্ট প্রস্তুতি
- সরকারি ফি
গড়ে মাঝারি বাজেট ধরেই পরিকল্পনা করা ভালো।
আইনগত ও ট্যাক্স বিষয়ক দিক
আইন মেনে চলা না হলে জরিমানা হতে পারে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন
বাংলাদেশে কাজ করতে হলে
স্থানীয় ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়।
TIN ছাড়া কোনো আর্থিক কার্যক্রম বৈধ নয়।
বার্ষিক কমপ্লায়েন্স
প্রতি বছর জমা দিতে হয়—
- কার্যক্রম রিপোর্ট
- অডিট রিপোর্ট
- নবায়ন আবেদন
BIDA অনুমোদন সাধারণত 3 বছর মেয়াদি হয়।
সাধারণ ভুল ও করণীয়
অনেক প্রতিষ্ঠান শুরুতেই ভুল করে।
- ভুল অফিস টাইপ নির্বাচন
- অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট
- কমপ্লায়েন্স অবহেলা
এই ভুলগুলো ভবিষ্যতে ব্যবসা বন্ধের কারণ হতে পারে।
কেন পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি
বিদেশি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন বহু ধাপের কাজ।
আইন, ট্যাক্স ও সরকারি নিয়ম জড়িত।
পেশাদার সহায়তা নিলে—
- সময় বাঁচে
- ঝুঁকি কমে
- অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ে
সঠিক পরিকল্পনাই সফল ব্যবসার ভিত্তি।